অসম থেকে আসছে বাঘ হরিণ, ছাড়া হল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে
দি নিউজ লায়ন ; হরিণ ছাড়া হল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে। জানা গিয়েছে ৭৫ টি স্পটেড ডিয়ার প্রজাতির হরিণ ছাড়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া এলাকায় এই হরিণগুলি ছাড়া হয়েছে। জানা গিয়েছে বল্লভপুর ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি থেকে এই হরিণগুলি আনা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে প্রতিবেশী রাজ্য অসম থেকে বাঘ নিয়ে আসার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে তারই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে হরিণ ছাড়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
বাঘ আনার আগে বাঘেদের নিজস্ব স্বাভাবিক এলাকা স্বাভাবিক রাখতেই মূলত গত ৫ বছর ধরে "প্রে বেস" নির্মাণের কাজ চলছে বাঘ বনে। যেহেতু বাঘ বাস্তুতন্ত্র তে সবচেয়ে উপরে থাকে তার নিচের দিকে ঘাসবন, তৃণভোজিদের অস্তিত্ব কে জঙ্গলে বজায় রাখতে গোটা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প জুরে ধাপে ধাপে কাজ চলছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পতে দুই দফায় প্রায় ২০০ র বেশি চিতল হরিণ ছাড়া হয়। এবার ফের চিতল হরিণ ছাড়া হচ্ছে।তবে দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।
জানা গিয়েছে অসম থকে ছয়টি বাঘ আসার আগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের খাদ্য শৃঙ্খল আর অনেকটাই শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চিতল হরিণদের স্বাভাবিক প্রজনন বিঘ্নিত না হয়, সেই জন্য পুরুষ মাদির ১ঃ৫ অনুপাতে হরিণ ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। উল্লেখ্য, চিতল হরিণ দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। যে কোন অরণ্যের পরিবেশে এরা খুব দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।আবার বাঘের খাবার হিসেবেও খুব সহজ টার্গেট হয়ে পরে চিতল।
আবার রাজ্যের বিভিন্ন সংরক্ষণ কেন্দ্র,অভয়ারণ্যে চিতল হরিণ এর অভাব নেই।সহজলভ্য।সহজেই বহন করে তুলে আনা যায়।স্বাভাবিক ভাবেই বাঘের খাদ্য হিসেবে আপাতত চিতল হরিণই প্রথম পছন্দ বনদপ্তরের।শিলিগুড়ি থেকে ন্যাফের কোয়ার্ডিনেটর অনিমেশ বসু বলেন,বাঘ আসবে ঠিকই। তবে জঙ্গলে খাদ্যশৃঙ্খল ঠিক রাখতেই হবে।সেজন্য ঘাসবন, তৃণভোজি প্রাণীদের নিয়ে খাদ্যশৃংখল সাজানোর কাজ চলছে।
সেই কারনে বাইরে থেকে হরিণ এনে ছাড়া হল। এতে বক্সায় বাঘেদের আবাস্থল হিসেবে পরিকাঠামো বাড়ল।"এদিকে,বক্সায় ঠিক কবে নাগাদ রয়েল বেঙ্গল টাইগার আসতে চলেছে তা এখনো জানা যায়নি।তবে রাজাভাতখাওয়া,জয়েন্তী,নিমাতি সহ গভীর জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড সময়ে ঘাসবন তৈরি হয়েছে। আপাতত হাতি,বাইসন সহ বিভিন্ন ধরনের হরিণের দখলেই রয়েছে ঘাসবন।

Post a Comment